বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

জিৎ ! যার নামেই ছবি হয় হিট


জিতেন্দ্র মদনানী (জিৎ)। যার নামেই ছবি হিট হয়। কিন্তু এক দিনেই তিনি আজকের জিৎ হয়ে উঠেননি। আসুন তার স্টার হওয়ার গল্প জেনে নিই।

প্রথমে নিউ আলিপুরের সেন্ট জোসেফ অ্যান্ড মারি স্কুল ও পরে ন্যাশনাল হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন জিৎ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। তবে সৃজনশীল কাজের প্রতি তার বরাবরই উৎসাহ ছিল। মাঝে মধ্যে তিনি বিখ্যাত অভিনেতাদের অভিনয় অনুকরণের চেষ্টা করতেন। তার এ প্রতিভা দেখে বন্ধু রাজেশ চৌধুরী সৃজনশীল দুনিয়ায় ভাগ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।




বন্ধুর পরামর্শ কাজেও লাগে জিতের। এরপর তাকে দেখা যায় বিভিন্ন সিরিয়ালে। বিষবৃক্ষ, জননীসহ আরও কিছু সিরিয়ালে অভিনয় করেন। এরপর রূপালী শহর মুম্বাই যান এবং বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার উদ্দেশ্যে পাঁচ বছর সেখানে কাটান। কিন্তু কোনোভাবেই সুযোগের দেখা মিলছিল না।

এরই ফাঁকে ছুটিতে কলকাতায় আসেন এবং বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনি প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হন। এর অধীনে বেশ কিছু ইংরেজি নাটকে অভিনয় করেন, উল্লেখযোগ্য হলো আর্মস অ্যান্ড দ্য ম্যান ও ম্যান অ্যাট দ্য ফ্লোর। তারপর আবারও মুম্বাই উড়াল। শেষমেশ এক তেলেগু ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটির নাম ছিল চাঁদু, কিন্তু ছবিটি জিতের ক্যারিয়ারে চাঁদের হাসি ফুটাতে ব্যর্থ হয়।

২০০১ সালের অক্টোবরে তিনি আবার কলকাতায় আসেন এবং পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তার কাছ থেকেই ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাথীছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান। ছবিটির দৃশ্যায়ন শুরু হয় ওই বছরের ১৫ জানুয়ারি। ছবিটি রাতারাতি ঘুরিয়ে দেয় জিতের ভাগ্যের চাকা। তার সহজ-সাবলীল অভিনয়ের সকলের মনে দাগ কাটে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রথমে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় শুরু করলেও, ক্রমশ অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জিৎ। ২০০৫ সালে থামস্‌ আপের বিজ্ঞাপন তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
২০১২ সালে ১০০% লাভছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করেন। যা তার ক্যারিয়ারে সফল প্রযোজকের পালক লাগিয়ে দেয়। পরের ছবি আওয়ারাপুরনো অনেক রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়ে। শ্রাবন্তীর বিপরীতে দিওয়ানাও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর বিপরীতে অভিনীত বসহিট করে।

২০০২ সালে প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর বিপরীতে সাথীছবিতে অভিনয় জীবন শুরু করে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ছবি করে ফেলেছেন এ নায়ক। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কারও।


জিৎ ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি স্কুলশিক্ষক মোহনা রতলানীকে বিয়ে করেন। পরের বছরের ১২ ডিসেম্বর তাদের একটি মেয়ে হয়। মেয়ের নাম নবন্যা।






মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

শিক্ষক রেখে হিন্দি শিখছেন প্রভাস


বাহুবলির পর থেকে ক্রমাগতই গোটাভারত জুড়ে বেড়েছে বাহুবলী তথা প্রভাসের ভক্ত। ‌তাই প্রভাসের হিন্দিভাষী ভক্তের সংখ্যাও এখন নেহায়েৎ কম নয়। অথচ, প্রভাস হিন্দি বুঝতে পারলেও একদমই সেটা বলতে পারেন না। তবে এবার হয়ত তিনি হিন্দি বলতেও পারবেন। কারণ প্রভাস এবার হিন্দি ভাষা শেখা শুরু করেছেন।

সূত্রের খবর, ভারতজুড়ে বাহুবলির জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে প্রভাসের আসন্ন ছবি সাহো‍র তেলেগু তামিলের পাশাপাশি হিন্দিতেও ডাব করার কথা ভাবা হয়েছে। আর সেই হিন্দি ডাব আর কেউ নন, প্রভাসের নিজের গলাতেই হবে বলে খবর। আর এর জন্য নাকি আলাদা করে শিক্ষক রেখে হিন্দি শিখছেন প্রভাস। এবং প্রভাসের হিন্দি শিক্ষা চলছে জোর কদমে। ‌যাতে জুলাইয়ের সাহো‍র শ্যুটিং শুরু আগেই প্রভাস ‌যাতে মোটামুটি এই ভাষাটা শিখে ফেলতে পারেন তা দেখা হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে প্রভাসের হিন্দি উচ্চারণের উপর।

তামিল অভিনেতা প্রভাস


প্রসঙ্গত, ‘বাহুবলি‍তে প্রভাসের মুখে হিন্দি ভার্সনে গলা দিয়েছেন টেলিভিশন জগতের প্রখ্যাত অভিনেতা শরদ কেলকার। শরদের গলা শুনে অনেকেই বুঝে উঠতেই পারেননি যে ওটা প্রভাসের গলা ছিল না। তবে এবার আর অন্য কেউ নন। সাহো‍তে প্রভাস তার নিজের গলাতেই হিন্দিতে কথা বলবেন। তাই চলছে প্রস্তুতি।


সাহো‍র শ্যুটিং হবে তেলেগুতে। পরে সেটা তামিল ও হিন্দি ভাষায় ডাব করা হবে। সাহো‍ মূলত একটি অ্যাকশন থ্রিলার। শোনা ‌যাচ্ছে এই ফিল্মে নাকি আন্তর্জাতিক ছবিতে কাজ করা প্রখ্যাত স্টান্ট কোরিওগ্রাফার কেনি বেটসকেও কাজ করতে দেখা ‌যাবে। সাহোতে প্রভাসের নায়িকা হিসেবে ক্যাটরিনা কাইফ ও আনুষ্কা শেঠির নামও শোনা যাচ্ছে।






রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

পুরনো দিনের কাহিনী || রাজার ও চাকর


পুরনো দিনের কাহিনী ।
এক রাজার এক চাকর ছিল।
চাকরটা সবসময় যে কোন অবস্থাতেই রাজাকে বলত, "রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না। কেননা আল্লাহ যা করেন তার সবকিছুই নিখুঁত ও সঠিক।"

একবার তারা শিকারে যেয়ে নিজেরাই এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলো। রাজার চাকর সেই প্রাণীকে মারতে পারলেও, ততক্ষণে রাজা তার একটা আঙুল খুইয়ে বসেছেন।


রাগে-যন্ত্রণায়-ক্ষোভে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে বলে ওঠে, "আল্লাহ যদি ভালোই হবে তাহলে আজকে শিকারে এসে আমার আঙুল হারাতে হতো না।"
চাকর বলল, "এতকিছুর পরও আমি শুধু আপনাকে এটাই বলব, আল্লাহ সবসময়ই ভালো ও সঠিক কাজর করেন; কোনো ভুল করেন না।
চাকরের এই কথায় আরও ত্যক্ত হয়ে রাজা তাকে জেলে পাঠানোর হুকুম দিলেন।

এরপর একদিন রাজা আবার শিকারে বের হলেন। এবার তিনি একদল বন্য মানুষের হাতে বন্দি হলেন। এরা তাদের দেবদেবির উদ্দেশ্যে মানুষকে বলি দিত। বলি দিতে যেয়ে তারা দেখল যে, রাজার একটা আঙুল নেই। তারা এমন বিকলাঙ্গ কাউকে তাদের দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে রাজি হলো না। তাই তারা রাজাকে ছেড়ে দিল।

প্রাসাদে ফিরে এসে তিনি তার সেই পুরোনো চাকরকে মুক্ত করে দেওয়ার হুকুম দিলেন। চাকরকে এনে বললেন, "ভাই, আল্লাহ আসলেই ভালো। আমি আজ প্রায় মরতেই বসেছিলাম। কিন্তু আঙুল না-থাকার কারণে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছি।

"তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে। আল্লাহ ভালো, এটা তো বুঝলাম। কিন্তু তাহলে তিনি আমাকে দিয়ে তোমাকে জেলে পুরলেন কেন?"
চাকর বলল, "রাজামশাই, আমি যদি আজ আপনার সাথে থাকতাম, তাহলে আপনার বদলে আজ আমি কোরবান হয়ে যেতাম। আপনার আঙুল ছিল না, কিন্তু আমার তো ছিল। কাজেই আল্লাহ যা করেন সেটাই সঠিক, তিনি কখনো কোনো ভুল করেন না।"

জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আমাদের শত অভিযোগ। আমরা ভুলে যাই কোন কিছুই আপনা-আপনি হয় না, বরং সবকিছুর পেছনেই একটি নির্দিষ্ট কারণ আছে।

আল্লাহই ভালো জানেন তিনি কেন এই কথাগুলো আপনাকে পড়ার সুযোগ করে দিলেন আজকে। তাই অন্যদেরকেও এই কথাগুলো শোনার সুযোগ করে দিন।

প্রত্যেকটা কাজের পেছনেই কারণ রয়েছে: যা ঘটে সেটা আমাদের ভালোর জন্যই।





শনিবার, ৬ মে, ২০১৭

সাংবাদিকতা হারাম পেশা ?


----------------
জীবনের অলিগলি-২০

সাংবাদিকতা হারাম পেশাঅথচ তিনি হোটেলের মারণঘাতী ক্যামিক্যাল ব্যবসা করেন।


একবার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে লেকসিটি কনকর্ড শপিং কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। একটি স্বঘোষিত নামী-দামী প্রতিষ্ঠানের কিছু কাজ করার জন্য কাজের কোয়ালিটি ও সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি দরপত্র প্রদান করেছিলুম। প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষের প্রধান ব্যাক্তি গায়ে ইয়া আলখেল্লা সহ ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমাকে বললেন যে কোন ভাবে আপনি মুল্য কমিয়ে ফেলুন।আমি বললাম- চাচা আপনার পণ্যের মান অক্ষুন্ন রাখতে আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এর চাইতে দর কমানো সম্ভব নয়, আমাদের মুল্য যদি আপনার পছন্দ না হয় তবে আপনারা অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন।


বলাবাহুল্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের চাইতে ভালমানে কম মূল্যে আর কেহ এদের কাজ করতে নারাজ। আর তাই তিনি আমাকে চাপ দিয়ে কাজটি করার জন্য আমার প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করতে চাইছেন।

আমাকে মানষিকভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যেই হঠাৎ বলে বসলেন আপনি যে ব্যবসা করেন সেটা ঠিক আছে, কিন্তু সাংবাদিকতা ও মিডিয়াতে কাজ করেন কেন ? এটাতো হারাম। আমি অবাক হলাম তার এমন আচমকা ফতোয়া জারিতে। বিনয়ের সহিত বললাম আসলে সব পেশাতেই হালাল হারাম দুটোই আছে। আমার কথাটা ভদ্ররনোকের পছন্দ হলোনা। বলে বসলেন আপনার জীবনের সমস্ত উপার্জন হারাম হয়ে গেল। আমি নিজের জিহ্বাকে সংযত করার চেষ্টা করলাম।

ভাবলাম উত্তর না দিলে এ লোক আরো বহু মানুষকে এমন আজগুবি ফতুয়ার রোষে ফেলবে। তাই বললাম চাচা আপনি যা বললেন, তা কি বুঝে-শুনে বলছেন ?’ তিনি মহা রেগে গেলেন। এক পর্যায়ে বলে বসলেন আমার কথা যদি বিশ্বাস না হয় তবে অমুক (প্রসঙ্গত উক্ত হুযুর ইতি পূর্বে কোন একটি সুদ ভিত্তিক ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়েছেন, তা আমি যানি)  হুযুরকে জিজ্ঞাসা করেন।

আমি একটু কড়া সুরেই বললাম- উনি কি ফতুয়া দিবেন, নিজেই হারাম-হালালের তোয়াক্কা করেন না। আর তাছাড়া কোন হুযুর বা আলেম দলিল নয়। আমাদের সামনে পবিত্র কুরআন রয়েছে। আমরা সে কোরআন থেকেই জানতে পারি। এবার উনি মহা ক্ষেদের সহিত বললেন আপনি তো বেশি বেড়ে গেলেন। পবিত্র কুরআন আপনি বুঝেন ?  কি রেজাল্ট পাবেন ওখানে ?

আমি হেঁসে বললাম, দুঃখিত চাচা আপনি হয়ত জানে না। আমি মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেছি। তা ছাড়া পবিত্র কুরআন জানতে বড় আলেম হওয়া জরুরী নয়, বরং মহাগ্রন্থ আল-কুরআন সকল মানুষের পড়ার ও জানার সুযোগ ও অধিকার আছে।

এবার তিনি সত্যি রেগে গেলেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের ফাইল ফেরত দিলেন আর বললেন আপনার সাথে কথা বললে আমি কাফির হয়ে যাব, আপনার প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করবনা।


আমি মুচকি হেঁসে সালাম দিয়ে তার অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লাম। ফুটপাথে হাঁটতে হাঁটতে কুরআন সবার জন্যঅনুষ্ঠানের আমার অভিনীত একটি নাটিকা কফি হাউসের সেই আড্ডাএর একটি সংলাপ মনে পড়ে গেল- মাছ যেমন পানিতে ডুবে থাকে, তোরাও তেমনি ভূলের সাগরে ডুবে আছিস। আর আকাশের দিকে তাকিয়ে মহা প্রভুকে বললাম হে মালিক, আর কতটি কাঁচা মরিচের চানাটক লিখে জাতিকে সচেতন করতে পারব ?...




সোমবার, ১ মে, ২০১৭

ঘুমের কারণে বয়সের ছাপ


সুন্দর ত্বকের জন্য চাই পর্যাপ্ত ঘুম। আবার সঠিকভাবে না ঘুমালে চোখ ফুলে যেতে পারে। হতে পারে ব্রণ, পড়তে পারে বলিরেখা।


স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে দিল্লির লুমিয়ার ডার্মাটোলজির ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. কিরণ লোহিয়া জানান, রাতে ভুলভাবে ঘুমানোর কারণে ত্বকে সমস্যা হতে পারে।


বালিশের কারণে ত্বকের ক্ষতি: চিত হয়ে শোয়া সবচেয়ে ভালো। ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে শোয়া দেহের তরল নিষ্কাশনের জন্য ভালো।


অনেকে সম্পূর্ণ কাত বা উপুর হয়ে শুয়ে থাকেন। ফলে মুখ বালিশে চাপ খেয়ে থাকে। বালিশে থাকে ব্যাকটেরিয়া বা মুখে ব্যবহার করার ক্রিম। তাই নিয়মিত বালিশের কভার পরিষ্কার করা উচিত। তানা হলে মুখে হতে পারে ফুসকুড়ি বা ব্রণ।


পেটে চাপ থেকে ত্বকের ক্ষতি: অনেকেই উপুর হয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন। যা সবচেয়ে ক্ষতিকর।


ঘুমের সময়ও ত্বকের শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন হয়। উপুর হয়ে ঘুমালে মুখের সমস্ত চাপ বালিশের উপর পড়ে বলে ত্বকের ফলিকলসবা গ্রন্থিকোষগুলো বাধা পায়। ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, যা থেকে দেখা দিতে পারে ব্রণ ও বলিরেখা।


মুখের কাঠামো আট ঘণ্টা বালিশের চাপে থাকলে ত্বকে চাপ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া এইভাবে ঘুমালে মুখ সমতল বা চেপ্টাভাবও দেখা দিতে পারে।


পাশ ফিরে ঘুমানোর প্রভাব: এভাবে শোয়া উপর হয়ে ঘুমানোর চাইতে কম ক্ষতিকর। তবে আদর্শ নয়।


এক কাত হয়ে ঘুমালে সারা শরীরের চাপ একপাশে পড়ে। ফলে গালের একপাশের হাড় চাপ খেয়ে থাকে। যা থেকে হতে পারে বলিরেখা। এছাড়া ঘুমের আগে ত্বকের যত্নে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করলে, পাশ ফিরে শোয়ার কারণে তা বালিশে লেগে যায়। ফলে ত্বকে ঠিকমতো মিশতে পারে না।


চিত হয়ে ঘুমানোর প্রভাব: এভাবে ঘুমানো সব থেকে ভালো।


প্রথমত, এই ভঙ্গিমায় ঘুমালে মুখের ত্বকে খুব বেশি চাপ পড়ে না। ফলে বলিরেখা কম দেখা দেয় এবং মুখের ত্বক তারুণ্য উজ্জ্বল ও কোমল থাকে।


উপুর হয়ে অথবা পাশ ফিরে ঘুমালে দেহের তরল চোখের চারপাশে জমা হয়। যা থেকে হতে পারে চোখের নিচে ফোলাভাব।


তাছাড়া বালিশের কভারে লেগে থাকা তেল-ময়ালা মুখে কম লাগার সম্ভাবনা থাকে।


ত্বকের সুরক্ষায় নিয়মিত চিত বা সোজা হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। যদিও এটি চর্চা করা বেশ কঠিন। তবে ত্বকের সুরক্ষায় এটি প্রয়োজন।




বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৭

চোর হলো মন্ত্রী || পুরনো দিনের কাহিনী


একবার এক চোরকে সামান্য ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির অপরাধে মৃত্যুদন্ড দেয়া হল। তখন সে চোর তার শেষ ইচ্ছা হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ চাইল।
যখন তাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে আসা হলো তখন সে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলল, ‌'স্যার, আপনার সাথে দেখা করতে চাওয়ার একটাই কারণ তা হলো, আমার কাছে এমন একটা গাছের বীজ আছে যে গাছটা মনের সব ইচ্ছা পূরন করতে পারে। আমি আপনার জন্য এই গাছটা রোপণ করে দিয়ে যেতে চাই।




প্রধানমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করল, 'তোমার চারা লাগাতে কত দিন লাগবে?'
চোর উত্তর দিল, 'এইতো স্যার, সাত দিন।'
সাতদিন পর তাকে আবার মন্ত্রিসভায় হাজির করা হল।
একজন জিজ্ঞেস করল, 'তোমার চারার কী খবর?'
চোর বলল, 'আসলে জমি তো রেডি কিন্তু বীজটা পরিপক্ক হতে আরও তিনদিন লাগবে।'
তিনদিন পর তাকে আবার হাজির করা হল।
প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, 'বীজ রেডি তো এবার?'
চোর বলল, 'স্যার জমি বীজ সবই রেডি কিন্তু আমিতো তা রোপণ করতে পারব না।'
প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, 'কেন?'
চোর বলল, 'এটা এমন একজনের হাতে রোপণ করতে হবে যে কোনদিন চুরি করেনি। না হলে এটা কার্যকারিতা হারাবে।'
সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন বীজ রোপন করতে।
অর্থমন্ত্রী কাচুমাচু হয়ে বললেন, 'স্যার, সারা দেশের অর্থ নিয়ে আমার কাজ। এত কাজের মধ্যে দু একটা তো এদিক সেদিক হতেই পারে।'
এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন পরিবহনমন্ত্রীকে।
পরিবহনমন্ত্রী কাচুমাচু হয়ে বললেন, 'স্যার, কত কত গাড়ি ঘোড়া আমার প্রতিনিয়ত অনুমোদন দিতে হয়, এর মাঝে তো দু একটা এদিক সেদিক হতেই পারে।'
এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কাচুমাচু হয়ে বললেন, 'স্যার, এতো দেশের সাথে যোগাযোগ, এতো দেশে যাওয়া আসা, বাণিজ্য লেনদেন এর মধ্যে তো আমারও দু একটা এদিক সেদিক হতেই পারে।'
প্রধানমন্ত্রী এরপর যাকেই বলেন সেই এদিক সেদিকের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যায়।
হঠাৎ সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ধরলেন, 'স্যার, আপনিই রোপণ করুন না।'
তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, 'তোমাদের তো দায়িত্ব ছোট ছোট, আমি পুরো দেশ চালাই। আমার কি একটু আধটু এদিক সেদিক হতে পারে না!'
তখন সবাই চুপ হয়ে গেল। হঠাৎ একজন বলে উঠলেন, 'তাহলে স্যার, এই লোক তো সামান্য একটা ম্যানহোলের ঢাকনা চোর। একে মৃত্যুদন্ড দেয়া কি ঠিক? একে ছেড়ে দেয়া হোক।'
আরেকজন বললেন, 'না একে ছেড়ে দেয়া যাবে না। তাহলে সে বাইরে গিয়ে সব ফাস করে দেবে।'
সবাই চিন্তায় পড়ে গেল একে নিয়ে কী করা যায়? তখন একজন বলল, 'স্যার এক কাজ করুন। একে আমাদের মতোই একটা পদ দিয়ে আমাদের সাথে সামিল করে নেন।'
যেই ভাবা সেই কাজ, সেই চোর হয়ে গেল মন্ত্রীসভার সদস্য।